দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের শঙ্কায় হরমুজ, বিকল্প পথে আরব দেশগুলো

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অবরোধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতেই এই তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধজাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তথ্যের ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের বাধার মুখে মার্কিন জাহাজগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত তাদের দাবির সপক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।

বেসামরিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শিপ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার মাল্টা ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে রওনা হলেও মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। কেন তারা পথ পরিবর্তন করেছে তা স্পষ্ট না হলেও, অঞ্চলটিতে এক ধরণের অস্থিরতা ও ভীতি বিরাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) ভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের সমঝোতার আশায় বসে নেই। তারা নিজেদের অর্থনীতি রক্ষায় বিকল্প পথ সচল করছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের 'পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন' পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করেছে, যার মাধ্যমে দিনে প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। এছাড়া দেশটির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেল স্থাপনাটিও পুনরায় সচল করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে বেসামরিক ও জ্বালানি তেলের জাহাজের যাতায়াত প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রণালিটি অকেজো হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের বিকল্প মানচিত্র তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সূত্র: 

SN
আরও পড়ুন