ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধ এক চরম উত্তেজনায় মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের অবরোধ ভেদ করে এখন পর্যন্ত একটি জাহাজও পার হতে পারেনি। গতকাল একটি জাহাজ পার হওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেন্টকম স্পষ্ট করেছে যে, জাহাজটি কেবল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছিল, কিন্তু মূল অবরোধের মুখে পড়ে বর্তমানে অন্য প্রান্তে আটকে আছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে তারা ছয়টি জাহাজকে নির্দেশ দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এক বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, অসংখ্য বিমান এবং ১০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য যাদের মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর দক্ষ সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন।
তবে এই বিশাল সামরিক কার্যক্রম কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং কূটনৈতিকভাবেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা একটি বড় 'জুয়া' বা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় গ্রাহক চীন। দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই পূরণ হয় ইরানি তেল দিয়ে। এই অবরোধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, চীনের জ্বালানি সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।
প্রশ্ন উঠেছে, এই চাপের মুখে চীন কি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে, নাকি উল্টো চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হবে? এছাড়া এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকেও সংকটে ফেলতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে শিগগিরই: ট্রাম্প