অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের 'গোপন বৈঠক'

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জেরে সংঘাতে জড়ানোর পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অন্তত চারটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন প্রায় বিচ্ছিন্ন, তখন নীতি ও কৌশলবিদ, সংসদ সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকরা এই ‘ব্যাক-চ্যানেল’ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের তীব্র যুদ্ধের মাত্র দুই মাস পর জুলাই মাসে লন্ডনে প্রথম আধা-আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস) এই আলোচনার মধ্যস্থতা করে। এর ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে ওমানের রাজধানী মাসকাটে দ্বিতীয় দফার আধা-আনুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পন্ন হয়। এরপর ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডে ‘দ্য চাও ট্র্যাক’ বা চাওপ্রয়া সংলাপ নামে পরিচিত একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদগণ অংশ নেন। সবশেষ বৈঠকটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের রাজধানী দোহায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে আয়োজিত হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীদের ধরন ছিল প্রায় একই রকম।

অংশগ্রহণকারীদের ধরন ও অংশগ্রহণ

আইআইএসএসের উদ্যোগে আয়োজিত আধা-আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মিশ্র উপস্থিতি ছিল। লন্ডনের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলে বর্তমান সামরিক কর্মকর্তারা থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। অন্যদিকে, দোহা ও থাইল্যান্ডের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিকরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে মতবিনিময় করেছেন।

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও গোপনীয়তা

২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে তলানিতে ঠেকে। লস্কর-ই-তৈয়বার প্রক্সি সংগঠন ‘টিআরএফ’ পেহেলগামে হামলা চালালে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে এবং সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতসহ কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়। এই চরম বৈরিতার কারণেই বৈঠকগুলো অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি দোহা বৈঠক নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা কোনো সাড়া দেননি।

উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার গুরুত্ব

বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুলাই মাসে লন্ডনের প্রথম বৈঠকটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে শুরু হলেও পরবর্তী ধাপগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের আচরণ অনেকটা নমনীয় ও সংযত হয়ে আসে। তৃতীয় একটি সূত্রের মতে, 'এই যোগাযোগগুলো অন্তত আলোচনার একটি পথ খোলা রাখতে এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার মাত্রা বুঝতে সহায়তা করছে, যা একটি মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণ করে।'

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত