আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটি কৌশলগত সম্পদ নয়, একটি ‘বোঝা’

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ শিক্ষাবিদ এবং দেশটির নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত আব্দুল খালেক আব্দুল্লাহ। 

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, এখন সময় এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করার। কারণ নিজেদের রক্ষার জন্য আমাদের আর ওয়াশিংটনের প্রয়োজন নেই। 

ইরানের আগ্রাসনের সময় দেশটি প্রমাণ করেছে, তারা নিজেদের রক্ষার সক্ষমতা রাখে। তিনি আরও জানান, এগুলো (ঘাঁটিগুলো) এখন আর কোনো ‘কৌশলগত সম্পদ’ নয় বরং একটি ‘বোঝা’। মিডল ইস্ট আই। 

আব্দুল খালেক বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এখন যা প্রয়োজন, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেরা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা। 

প্রসঙ্গত, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি ঘাঁটি রয়েছে। যার মধ্যে আটটিকে স্থায়ী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে এ অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা। 

এছাড়া দেশটিতে আল-দাফরা বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আমিরাত যৌথভাবে ব্যবহার করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাত ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। ইরান কেবল ইসরাইল নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষ করে আমিরাত এই যুদ্ধের প্রভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মার্চ মাস পর্যন্ত তেহরান আমিরাতের ওপর ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই যুদ্ধের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

দেশটির অর্থনীতি মূলত পর্যটন, রিয়েল এস্টেট, লজিস্টিকস ও অর্থ খাতের ওপর নির্ভরশীল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূলধন কমেছে। পাশাপাশি ১৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। 

মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট সূচক যুদ্ধের আগের তুলনায় অন্তত ১৬ শতাংশ কমেছে। যদিও আমিরাতের ওপর চালানো অধিকাংশ আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। 

তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আবুধাবি ও দুবাইয়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চল অন্যতম।

HN
আরও পড়ুন