মার্কিন নৌ অবরোধেও টিকে যেতে পারে ইরান, রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ক্রমেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠোর হলেও ইরান একে দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখতে পারার মতো প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্যের ওপরই বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

বাহরাইনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম এরেলি আল জাজিরার দিজ ইজ আমেরিকা (This is America) অনুষ্ঠানে বলেন, ইরানের জাহাজ আটকে দেওয়া ও বন্দর অবরোধ করা নীতিগতভাবে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। তবে বাস্তবে এই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, তেহরান আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এরেলি বলেন, ইরান কেবল তেল উত্তোলনেই নির্ভর করে না; তারা বিকল্প উপায়ে তেল সংরক্ষণ, বিক্রি ও রপ্তানির পথ তৈরি করেছে। এমনকি কোনো সময় তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও, ইরানের হাতে এমন ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে।

এই বাস্তবতায় তিনি মনে করেন, বর্তমান অবরোধে ইরান বেশি সহনশীলতা দেখাতে পারে। অন্যদিকে  ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এই চাপ কতদিন বহন করা হবে এবং এর ফল কী।

এরেলি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি কেবল সামরিক মানচিত্রে সেনা, জাহাজ বা বিমান সরানোর হিসাব নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন একজন রাজনীতিক যিনি রাজনৈতিক জনমত ও নির্বাচনী হাওয়ার প্রতি খুবই সংবেদনশীল।

তার ভাষায়, এখন যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে দুই কৌশলের মুখে একদিকে ইরানকে চাপ দেওয়ার কৌশল, অন্যদিকে নির্বাচনী রাজনীতির হিসাব। এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে কোনটি আগে পিছু হটবে? ট্রাম্পের কঠোর ইরান নীতি, না রাজনৈতিক বাস্তবতা?

এই অনিশ্চয়তার মধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরান সংকট দীর্ঘ হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক হিসাবকেও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে।

NB
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত