রোববার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের আল্টিমেটামে নতুন মোড়

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববারই (২৬ এপ্রিল) ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে ইসরাইলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই এমন বার্তা পৌঁছালো তেল আবিবে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'কান'-এর বরাতে মিডলইস্ট আই জানাচ্ছে, ট্রাম্প এখন আর তেহরানের সাথে কোনো অন্তহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করতে রাজি নন; বরং তিনি দ্রুত একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে চান। তবে সপ্তাহান্তের মধ্যে দুই দেশের আলোচনায় কোনো বড় ধরনের বা নাটকীয় সাফল্যের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। 

এই পুরো প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা, যা কি না খোদ ইসরাইলি সূত্রগুলোকেও খানিকটা দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে।

এর আগে অবশ্য হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইরানের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত করেননি।

লেভিটের দাবি অনুযায়ী, ইরান যাতে নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নিয়ে আসতে পারে, সেই সুযোগ দিতেই প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন। তবে রোববারকে চূড়ান্ত দিন হিসেবে প্রচার করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর যে প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। ট্রাম্প মূলত দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার টেবিলে আটকে না থেকে দ্রুত কোনো বোঝাপড়া বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এগোতে চাইছেন।

এই পরিস্থিতির গভীরে তাকালে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার এই খবরটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে আবারো এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানকে নিজেদের আচরণ ঠিক করার সুযোগ দেয়া হয়েছেG

অন্যদিকে রোববারকে আল্টিমেটাম হিসেবে রাখা হচ্ছে। ইসরায়েলি মিডিয়া এই সময়সীমা নিয়ে সরব থাকলেও খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে ভিন্ন সুর যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়াচ্ছে।

ইরান যদি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন কোনো প্রস্তাব নিয়ে না আসে, তবে রোববারের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। মূলত ট্রাম্পের এই মারমুখী ও সরাসরি পদক্ষেপ তেহরানকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে সমঝোতা আর সংঘাতের মাঝে খুব সামান্য দূরত্বই বাকি রয়েছে। 
তেহরান এর আগে বলেছে, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আঙ্গুল ট্রিগারে রয়েছে। সূত্র : মিডলইস্ট আই

আরও পড়ুন