বঙ্গোপসাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো ভারত

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ভারত।

ভারতীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া নিশ্চিত করেছে যে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এই গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি চালানো হয়।

সূত্র জানায়, দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এবং এটি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক। তবে এই পরীক্ষার বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। সাধারণত এ ধরনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করার আগে সরকারিভাবে মুখ খোলা হয় না।

নিরাপত্তা সূত্রটি বলেছে, এটি বহুল আকাঙ্ক্ষিত অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ঘরানার, যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে এর পাল্লা সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেশি।

যদি ভারত সত্যিই এ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে হামলা করতে পারবে। এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ারই ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য আইসিবিএম আছে বলে জানা যায়, যাদের পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি।

এই পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই ভারতের ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান বলেছিলেন, অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র চূড়ান্ত করার সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রয়েছে, সরকারের অনুমোদন পেলেই তারা এ ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর পথে এগিয়ে যাবেন।

দিনকয়েক আগে ভারতের শাসকদল বিজেপি-ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগ্নি-৬ নিয়ে নতুন ঘোষণা আসতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছিল।

তারা বলেছিল, অগ্নি-৬ দেশের নিরাপত্তাকে ‘দুর্ভেদ্য’ করে তুলবে এবং ভারতকে বিশ্বের পরাশক্তিদের তালিকায় স্থান করে দেবে।

পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করা দেশ সহজেই ‘শত্রুর’ পারমাণবিক হামলার জবাব দিতে পারে; এই বিবেচনায় আইসিবিএম’কে শক্তিশালী প্রতিরোধ অস্ত্র ধরা হয়। এই প্রযুক্তি একইসঙ্গে এটাও প্রমাণ করে যে দেশটি জটিল রকেট পরিচালনা ও তা সুনির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এদিকে শুক্রবার ডিআরডিও জানিয়েছে, তারা নিজেদের বানানো প্রথম এমন এক অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘আনগাইডেড ওয়ারহেডকেও’ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ওড়িশা উপকূলের কাছেই ভারতীয় বিমান বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ডিআরডিও এই ট্যাকটিকাল অ্যাডভান্স রেঞ্জ অগমেন্টেশন (তারা) অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

YA
আরও পড়ুন