সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ার নির্দেশিকা জারি করেছে। এরপর থেকেই যারা অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছে, তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তর ২৪ জেলার বসিরহাট মহাকুমার অন্তর্গত স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকিমপুরে অবস্থিত বিএসএফ চেকপোস্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারীরা ভিড় জমিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন সময়ে ভারতে আসা আরও বাংলাদেশি নাগরিকরা। নারী, পুরুষদের পাশাপাশি রয়েছেন শিশুরাও।
অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সম্প্রতি রাজ্যটিতে ক্ষমতায় এসেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে ফেলা), ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো) নীতি নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
সংবাদ সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘সিএএ’র আওতায় যারা নেই, তারা হলেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সাময়িক সময়ের জন্য রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই মালদহ জেলায় ৯ জন এবং মুর্শিদাবাদে ৩ জনকে সেই হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের ডিপোর্ট করা হবে।
নিজ দেশে ফিরতে সীমান্তে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জমায়েতের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই লোকগুলোর চলে যাওয়াই উচিত। আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখছিলাম ওদের দেশ থেকে বলা হচ্ছিল যে যারা বাংলাদেশি নাগরিক আছে, তাদের ফিরিয়ে নেবেন। তাই এদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, এই মানুষগুলোকে কারাগারে পাঠানোর কোনো দরকার নেই। দেশের রুপিতে খাবার খাবে, কাপড় দেব, ওষুধ দেব, তারা কি আমাদের জামাই হয়? জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায়, সরকার করেগা (তাড়াতাড়ি চলে যান। না হলে, সরকার যেটা করার করবে)।
শুভেন্দু বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর কোনো দরকার নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বিএসএফের সাথে বাংলাদেশের যে চুক্তি রয়েছে...বাংলাদেশি প্রমাণিত করে তাদের হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের দেশের কারাগারে তিন মাস, ছয় মাস, দুই বছর রেখে আপনার চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম তাদের দেব কেন? এতে তো ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।
তৃণমূলের কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক
বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার