মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

আফ্রিকার আবেই (Abyei) অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা জানাতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। 

বিশ্ব শান্তিতে অবদানের জন্য তাদের মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ (Dag Hammarskjöld Medal) দেওয়া হবে।

আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক হস্তান্তর করবেন।

ড্রোন হামলায় শহীদ হয়েছিলেন সেই ৬ বীর

জাতিসংঘের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মরণোত্তর এই পদক পেতে যাওয়া ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন:

মো. জাহাঙ্গীর আলম

মো. সবুজ মিয়া

মো. মাসুদ রানা

মো. মোমিনুল ইসলাম

শামীম রেজা

সান্ত মণ্ডল

প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (UNISFA) দায়িত্ব পালনকালে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় এই ছয় বাংলাদেশি সেনাসদস্য নিহত হন।

এবারের অনুষ্ঠানে যা থাকছে


নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এ ছাড়া, গত বছর (২০২৫ সাল) দায়িত্ব পালনকালে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এবার মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হবে।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবস্থান


বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর দিক থেকে বিশ্ব দরবারে চতুর্থ শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ।

মিশনসমূহ: আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, কঙ্গো, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারা।

মোট সদস্য: বর্তমানে ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ২৭৭ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

পটভূমি: ২০০২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতিবছর ২৯ মে 'আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। 

১৯৪৮ সালের ২৯ মে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন’ (UNTSO) গঠনের স্মরণে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়।

HN
আরও পড়ুন