মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইরান আলোচনা স্থবির হয়ে থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বইছে ভিন্ন হাওয়া। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহের কারণে নতুন সপ্তাহের শুরুতেই এশিয়ার প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে এর উল্টো পিঠে, জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় দাম বেড়েই চলেছে।
নতুন সপ্তাহের ট্রেডিং শুরু হতেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক ‘কোসপি’ (Kospi) ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর আগে গত সপ্তাহেও সূচকটি রেকর্ড ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে জাপানের বিখ্যাত ‘নিক্কেই ২২৫’ (Nikkei 225) সূচকটি সোমবার (১ জুন) আরও ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেও এই সূচকটি প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছিল।
শেয়ারবাজার চাঙ্গা হলেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে অস্বস্তি কাটেনি। আজ এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি লাফিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে নিজেদের স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করায় মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান (JPMorgan)-এর মার্কিন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মাইকেল ফেরোলি বলেন, বর্তমানে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যদি আবারও চলাচল শুরু করতে পারে, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর থাকা চরম ঝুঁকির ধাপটি হয়তো কেটে যাবে।
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন যে, ঝুঁকি কাটলেও সবকিছু আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত করা এবং বিভিন্ন দেশের জরুরি তেলের মজুদ পুনরায় গড়ে তুলতে বেশ সময় লাগবে। যার ফলে আগামী বেশ কিছু দিন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থাতেই থাকবে। সূত্র: আল জাজিরা
চুক্তির মূল শর্তই হলো ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে না: ট্রাম্প