ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা ৪০০ বিড়াল উদ্ধার

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে বিড়ালের মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চার শতাধিক চুরি হওয়া জীবিত বিড়াল এবং আটক করা হয়েছে ৯ জনকে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পোষা প্রাণী চুরির একাধিক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের খোঁজ পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে ৪৫টি খাঁচায় রাখা প্রায় ৪০০ জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বরফভর্তি চারটি ফোমের বাক্স থেকে প্রায় ৮০টি মৃত বিড়ালের দেহও জব্দ করা হয়েছে। পরে অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়।

হো চি মিন সিটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে গত তিন বছর ধরে তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল চুরি ও সংগ্রহ করে আসছিল। তাদের কার্যক্রমের আওতায় ছিল হো চি মিন সিটি, তে নিনহ এবং আন গিয়াং অঞ্চল।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত বৈধ। তবে এসব প্রাণী বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসের বৈধ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই সুযোগে অসংখ্য চক্র পোষা প্রাণী চুরি করে অবৈধভাবে জবাই করছে।

আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালসের কর্মকর্তা করণবীর কুকরেজা বলেন, ভিয়েতনামে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক কুকুর ও বিড়াল চুরির শিকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার থেকে পোষা প্রাণী তুলে নিয়ে মাংসের বাজারে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে ভিয়েতনাম ক্যাট ওয়েলফেয়ারের প্রতিনিধি ক্রিস গিন্ডেলহুমার জানিয়েছেন, অভিযানের পর অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালের খোঁজে যোগাযোগ করেছে। এখন পর্যন্ত ৪২টির বেশি বিড়ালকে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিবেশে আটকে রাখার কারণে উদ্ধার হওয়া কিছু প্রাণী মারা গেছে।

প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভিয়েতনামেও এ ধরনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে জনমত জোরালো হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পোষা প্রাণী ও তাদের মালিকদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। মধ্য ভিয়েতনামের হোই আনসহ কয়েকটি শহর প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও শুরু করেছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন