যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরের দিকে লেনদেন শুরুর পরপরই তেলের দাম কমতে শুরু করে। এই চুক্তির আওতায় দু'দেশের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে এবং ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট  ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ সেন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৫.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নেতারা যদি "সঠিক আচরণ না করেন" তবে তিনি আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারেন— এমন মন্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সেই ঊর্ধ্বমুখী ভাব কেটে গিয়ে আবারও পতন শুরু হয়।

বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর এক নোটে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর বাজারে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে ইরানি তেল ফিরে আসার সম্ভাবনায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিক্রি শুরু করেছেন, যার প্রভাবে এই দরপতন।

স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার মেয়াদ শুরু হয়েছে। এই সময়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান সব ধরনের জাহাজকে শুল্কমুক্ত বা টোল-ফ্রি যাতায়াতের অনুমতি দেবে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রণালি দিয়ে নৌ-যান চলাচল পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রাথমিক এই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো বেশ কিছু জটিল বিষয়কে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরান পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ৩০০ বিলিয়ন (৩০,০০০ কোটি) ডলারের একটি বিশাল অর্থায়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বুধবার তাদের মাসিক বাজার প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেলে চলতি বছরের সরবরাহ সংকট ২০২৭ সালে গিয়ে ‘অতিরিক্ত সরবরাহ উদ্বৃত্তে’ (Supply Glut) রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাজারে ফিরে আসায় আগামী বছর চাহিদা তুলনামূলক কমবে এবং প্রতিদিন সরবরাহ চাহিদার চেয়ে ৫০.৫ লাখ ব্যারেল বেশি হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের শেষের দিকে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। সুদের হার বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে, যা তেলের চাহিদাকে আরও কমিয়ে দিতে পারে। বুধবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেডের ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জনই এখন সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন; অথচ তিন মাস আগেও তাদের কেউই এই অবস্থানের পক্ষে ছিলেন না।

YA
আরও পড়ুন