ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওয়ান্টেড তালিকায় ৬০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই তালিকায় মোট ৬,৪৪৪ জন অপরাধীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইন্টারপোল সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি রেড নোটিশভুক্ত সব ব্যক্তির নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে না। তবে জারি করা রেড নোটিশ সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধীদের শনাক্তে সহায়তা করে।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশের যে ৬০ জনের নাম তালিকায় রয়েছে, তারা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের মুখে রয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বেলজিয়াম।
বিদেশি কর্তৃপক্ষ যাদের খুঁজছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের রাজু ঢালী (সিঙ্গাপুরে হত্যা মামলা), ঢাকার মো. মিলন (দক্ষিণ আফ্রিকার ইসওয়াতানিতে হত্যা মামলা) এবং লিটন ব্যাপারী (হত্যাচেষ্টা মামলা), নোয়াখালীর মিজান মিয়া (দক্ষিণ আফ্রিকায় খুনের অভিযোগ)।
এছাড়া ভারতের অনুরোধে খোঁজ চলছে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস, তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তির, যাদের বিরুদ্ধে মুদ্রা জালিয়াতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম খুনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুঁজছে। চোরাচালানির অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফাকে এবং খুনের অভিযোগে ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া। অর্থ তছরুপের অভিযোগে হানিফকে খুঁজছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ। যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম ও অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন মামলায় বহু আসামিকে ইন্টারপোলের সহায়তায় খুঁজছে তাদের মধ্যে তালিকায় থাকা অপরাধীরা হলেন হত্যা মামলার আসামি বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিম, খুলনার শরীফুল হোসাইন, চট্টগ্রামের আমিনুর রসুল, নেত্রকোনার আব্দুল জাব্বার, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, মুন্সীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, খুলনার হারুন শেখ, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান এবং গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়।
মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পরে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা করা, আটকে রাখা এবং মুক্তিপণ দাবিতে হত্যা করার অভিযোগে বাংলাদেশ খুঁজছে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল ও মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে। পর্নোগ্রাফির অভিযোগে টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ, জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানকে খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার।
এছাড়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ মো. হোসেনকেও খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার।
এদিকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি থাকলেও ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের প্রকাশ্য ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম দেখা যায়নি।
সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১১ ইরানি জাহাজের চলাচল
বঙ্গোপসাগরে চীন নির্মিত সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না মানলে ইরানও চুক্তি ভাঙবে: ইসমাইল বাঘাই