ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলার: ট্রাম্পের চুক্তিতে তোলপাড় ওয়াশিংটন

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বর্তমানে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান বিধান হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা, যা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে মিলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি পারস্পরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এছাড়াও, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব রাখা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকটি সামনে আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়েই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, এই তহবিলের জন্য মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অর্থায়নের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ 'ভুয়া খবর' এবং ডেমোক্র্যাটদের 'অপপ্রচার' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে আমেরিকার একটি পয়সাও ইরানে যাবে না, বরং আঞ্চলিক আরব দেশ এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারী রাষ্ট্রগুলোর অর্থায়নে এই তহবিল গঠিত হতে পারে। তবে শর্ত হলো, এই সম্পদ পেতে হলে ইরানকে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করতে হবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।

এই আশ্বাসের পরেও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট এবং কট্টরপন্থী কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বিষয়টিকে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার, অ্যামি ক্লোবুচার এবং কংগ্রেসম্যান জেসন ক্রো এই পরিকল্পিত তহবিলটিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সাথে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, যে অর্থ দিয়ে দেশের গৃহহীনতা দূর করা, ক্যান্সার গবেষণা কিংবা শিশুদের বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া সম্ভব ছিল, তা ইরানে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের সমালোচক রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি দেশের রাস্তা ও সেতুর বার্ষিক ব্যয়ের সাথে তুলনা করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

এমনকি ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকারও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন যে, ওবামা আমলের ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির আওতায় ইরান যে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত পেয়েছিল, তার তুলনায় এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাটি অনেক বড়। যদিও ট্রাম্পের এই নতুন সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা হয়নি এবং তা আগামী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুনর্গঠন তহবিলের পাশাপাশি এই চুক্তিতে ইরানের জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের ওপর থেকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং শত শত কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

Attr/YA
আরও পড়ুন