পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদি

পাকিস্তানের সাথে পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিলো

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফর করেছেন। 

শনিবার দু’দিনের সফরে রাজ্যে পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের (২০ জুন) এক অনুষ্ঠানে দেশভাগ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হতো। তবে সরকার বদলের পর স্থির হয়েছে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। 

১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল। তার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিভাজনের সময়ে কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রাখতে চেয়েছিল। বিভাজনের পরে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গকে নিয়েও তোষণের খেলা শুরু করে দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান সন্তানদের সঙ্গে যে মাটির যোগ রয়েছে, সেখানে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পরে বামেরা, তার পরে তৃণমূল—দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিংসা, নোয়াখালির হিংসায় কত নির্দোষ বাঙালি মারা গিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে। নিজের পরিজনকে হারিয়েছেন। মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছেন। কিন্তু বাংলা নিজের অস্মিতা এবং পরিচয়কে নষ্ট হতে দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন পুরো বাংলাকে ভারত থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা চলছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ বানিয়ে ওই পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হয়নি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে শুধু একটা তারিখ হিসাবে স্মরণ করছি না। পুরো ইতিহাসকে স্মরণ করছি।’

মোদি বলেন, ‘ওই সময়ে কী হচ্ছিল, তা জানা দরকার। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ হিসাবে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হার মেনে নিয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে সরব হন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করান। তিনি ঘোষণা করেন, পুরো বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না।’

বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে আগের রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। নতুন সরকার এসেই জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে।’

HN
আরও পড়ুন