মাসের পর মাস উত্তেজনা, হুমকি-পাল্টা হুমকি এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর অবশেষে কূটনীতির টেবিল থেকে আশাব্যঞ্জক বার্তা এসেছে। শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনাগুলো ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠক থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ, রাজনৈতিক তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন এবং কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক যখন সংঘাতের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল, তখন এই অগ্রগতিকে কূটনৈতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আলোচনার আগে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
শেহবাজ শরীফ আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ভবিষ্যতেও আন্তরিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে যাবে।
যদিও সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তদারকি কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই পক্ষ কেবল উত্তেজনা কমাতেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ভিত্তি গড়তেও আগ্রহী।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই অগ্রগতি শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে যেসব আলোচনা হলো
মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হাত মেলাননি গালিবাফ-আরাঘচি
'শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান'