যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে। এই বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, ইরান তাদের দেশে পুনরায় আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেবে। তবে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্টের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাথে এই বিষয়ে আলোচনা “আজকের মধ্যেই” শুরু হতে পারে। কিন্তু এর পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে তেহরান নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এই আলোচনা চলাকালীনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যার ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে ইরান।
সোমবার (২২ জুন) এই বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ‘একটি রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে একটি “খুব ভালো ভিত্তি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, দল দুটি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে আলোচনা করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) কর্তৃক সোমবার জারি করা এই ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সিদ্ধান্তটি তেহরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করে রাখা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মূল স্তম্ভগুলোকে সাময়িকভাবে ভেঙে দিয়েছে। এই জরুরি লাইসেন্সের আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই শিথীলতার অধীনে ইরানি তেল সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে। এর ফলে ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়েছে এবং তেল বিক্রির জন্য আগে ইরানকে যে জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হতো, তার অবসান ঘটেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিনিময়ে তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে এবং আইএইএ (IAEA) পরমাণু পরিদর্শকদের দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
সোমবার সকালে সুইজারল্যান্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেডি ভ্যান্সের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পরমাণু পরিদর্শকরা কবে ইরানে ফিরবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আশা করছেন এই প্রক্রিয়াটি “চলতি সপ্তাহের মধ্যেই” শুরু হবে এবং পরিদর্শকদের সাথে আলোচনা “আজকের মধ্যেই” হতে পারে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেছেন যে, ইরান “বড় ধরনের অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কর্তাদের সব দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইরান স্পষ্ট করল যে, পরমাণু ইস্যুতে নতুন কোনো শর্ত তারা মানেনি। সূত্র: বিবিসি
রাজনৈতিক সংকটে যুক্তরাজ্য, ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে আশাবাদী গালিবাফ
ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুই শিশুসহ ১৮ জনের মৃত্যু
কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী