মাইকেলেঞ্জেলোর স্থাপত্য কী : রোমের ফরাসি দূতাবাসে ফিরলো ঐতিহাসিক জৌলুস

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ এএম

দীর্ঘ পাঁচ বছরের নিখুঁত সংরক্ষণ ও সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে নিজেদের শতাব্দীপ্রাচীন নান্দনিক রূপ ফিরে পেয়েছে রেনেসাঁ যুগের কিংবদন্তি শিল্পী ও স্থপতি মাইকেলেঞ্জেলোর নকশা করা সিংহভাস্কর্যগুলো।

ইতালির রাজধানী রোমের ঐতিহাসিক 'পালাজ্জো ফারনেজে' (Palazzo Farnese) প্রাসাদে অবস্থিত এই ভাস্কর্য ও অলঙ্করণগুলো বর্তমানে সেখানে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাস ভবনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আভিজাত্য ছড়াচ্ছে।

সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP)-এর বরাতে জানা যায়, ১৬ শতকের এই প্রাচীন প্রাসাদের কার্নিশজুড়ে প্রায় ৩০০টি সিংহের ভাস্কর্য ও অলঙ্করণ রয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, প্রতিটি সিংহের ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি ও অনন্য নকশাকে নিখুঁতভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ভাস্কর্যগুলোর পাশাপাশি ভবনটির ছাদ, সম্মুখভাগ (Facade) এবং বাইরের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীকেও আদি রূপে ফিরিয়ে এনেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সংস্কার কাজকে একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন রোমের সংস্কৃতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ড্যানিয়েলা পোরো। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সংস্কারের সময় মাচায় চড়ে শত শত বছরের পুরনো এই শিল্পকর্মগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখা এবং স্পর্শ করাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি মুহূর্ত ছিল।

ড্যানিয়েলা পোরো ইতালির রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই প্রাসাদটিকে 'বিশ্ব স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য মাস্টারপিস' হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, এই বিখ্যাত ভবনের সম্মুখভাগের মূল নকশাকার ছিলেন স্বয়ং মাইকেলেঞ্জেলো।

পুরো প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ফরাসি স্থপতি পিয়ের-অঁতোয়ান গাতিয়ে জানান, ভবনের বিশাল কার্নিশটি নিজেই এক বিশাল ও স্বাধীন শিল্পকর্ম। বিশেষজ্ঞদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, সম্মুখভাগে থাকা সিংহমাথার একটি ভাস্কর্য সম্ভবত মাইকেলেঞ্জেলো নিজের হাতেই খোদাই করেছিলেন।

ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ গাতিয়ে এই সংস্কার কাজের কিছু চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। তিনি জানান, দেয়ালের ফাটল ও বিভিন্ন গোপন অংশ থেকে কিছু প্রাচীন টেনিস বল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময় প্রাসাদের এই চত্বরটি খেলাধুলার মাঠ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

গাতিয়ের ভাষায়, "এটি এমন এক রোমাঞ্চকর প্রকল্প ছিল, যার প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ লুকিয়ে ছিল।"

উল্লেখ্য, ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই এই ঐতিহাসিক পালাজ্জো ফারনেজে প্রাসাদটি ইতালিতে ফ্রান্সের দূতাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ইতালিতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত আন-মারি দেস্কো এই সফল পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই অনন্য স্থাপনাটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং একে আদি রূপে ফিরিয়ে আনা আসলে ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অঙ্গীকার। একই সাথে এটি দুই দেশের গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

HN
আরও পড়ুন