‘মাদানি দিহায়াতি, উম্মাহ দিবারকাতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মালয়েশিয়াজুড়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে। দেশটির প্রতিটি রাজ্যে জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রা, বিশেষ দোয়ার মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত এবং ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় সেলাঙ্গরের ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম) প্রাঙ্গণে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, তাঁর স্ত্রী এবং সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রায় চার হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এই মহাসমাবেশে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিলাদুন্নবীর শিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাস্তব জীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, মানবকল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করাই ইসলামের আসল সৌন্দর্য।
সেলাঙ্গর রাজ্যে সুলতান শরাফউদ্দিন ইদ্রিস শাহের উপস্থিতিতে বিশেষ আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেখানে সমাজসেবায় অবদানের জন্য ৮৪ বছর বয়সি হিন্দন আবদুল্লাহকে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী ব্যক্তিত্ব’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
অন্যান্য রাজ্য যেমন জোহর, মেলাকা ও সাবাহতে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। সাবাহর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের আয়োজনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তেরেংগানু, কেদাহ, পেরাক ও পাহাং রাজ্যেও রাজকীয় উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও গুণীজনদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে নেগেরি সেমবিলানে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে পূর্বনির্ধারিত শোভাযাত্রার কার্যক্রম বাতিল করতে হয়।
কেলান্তানের আল তাকওয়া মসজিদে উদযাপনটি ভিন্ন মাত্রা পায় ঘোড়ার প্রতীকী ব্যবহারের মাধ্যমে। সেখানে নবীজির যুগের স্মৃতি স্মরণে ২০টি ঘোড়া ও ৪০০ মানুষের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা বের করা হয়।
তথ্যসূত্র : মালেশিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কমেছে আমেরিকানদের সমর্থন
হামজাকে ছাড়াই শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্যাম্প