যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হলেও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর ভর করে অর্থনীতি সচল রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছে ইরান। ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকার করাতে চাইলেও, তেহরান জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি সামলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিসাদে রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে দুই বছরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা তেহরানের রয়েছে এবং বর্তমান বিশ্বে ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য না থাকায় ইরানও পাল্টা কৌশল গ্রহণ করতে পারে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি ব্যবসায়ীদের জানান, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তেল রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষিত রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি বলেন, কষ্ট সহ্য করা আর ভেঙে পড়া এক বিষয় নয়।
অর্থনৈতিক উত্তরণের অংশ হিসেবে তরুণদের ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। দেশের ৯০ মিলিয়ন মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ইরান বর্তমানে ৮৫ শতাংশ কৃষি পণ্য দেশে উৎপাদনের দাবি করছে, যা খুব দ্রুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে জলসংকট ও অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
একই সঙ্গে দেশে ৯৭ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনের দাবি করা হলেও বাস্তবে প্রায় ১,০০০ ক্যাটাগরির ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সংকট এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ফলে জ্বালানি সংকট চরম রূপ নিয়েছে। সব মিলিয়ে কঠোর পরিস্থিতি সত্ত্বেও আত্মনির্ভরশীলতার পথেই অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে চাইছে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরা
রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কে বাসে ইউক্রেনের বিমান হামলা, নিহত ৯
গায়ক আসিফকে হাসিনার সঙ্গে তুলনা করলেন রাশেদ খাঁন