মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের নজিরবিহীন ক্ষতি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলায় শত শত কোটি ডলার সমপরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। চলমান এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল।

সংবাদটির তথ্যমতে, গত মার্চে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর একটি স্টেশন এবং পূর্ব ইরাকের একটি সিআইএ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি গোপন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানকে রাশিয়া ড্রোন প্রযুক্তি বা সুনির্দিষ্ট নিশানার তথ্য (টার্গেটিং ইনফরমেশন) দিয়ে সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ৬৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার সুনির্দিষ্ট দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ হতে চলেছে, যা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়ে ৪.১০ ডলারে পৌঁছেছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলায় ইরানও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন হামলায় প্রায় ১৩,০০০ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই সংঘাতে হাজার হাজার ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পার হতে চললেও কূটনৈতিক সমাধান না আসায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার নীতিতে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

ওয়াইএ
আরও পড়ুন