ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলা বৃহত্তর সামরিক অভিযানের সূচনা কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটন থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক ম্যানুয়েল রাপালো জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর দাবি করা এই হামলা বৃহত্তর উত্তেজনার অংশ কি না, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেমর) ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা একটি ট্যাংকার ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্কের কাছে থাকা আরেকটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ট্যাংকারটি ওমান উপসাগরে একাধিক স্থানে আঘাতের পর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্র চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজটি খালি করে দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- তেলবাহী জাহাজে হামলা কি কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ, নাকি এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে দ্বিতীয় সম্ভাবনার পক্ষে নিশ্চিত কোনো মার্কিন সংকেত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তেলবাহী জাহাজে সরাসরি হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচল নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
ইরানিদের ঐক্যের আহ্বান পেজেশকিয়ানের
তিন ইরানি তেলবাহী জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা