চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চার দফা প্রস্তাবের প্রতি তেহরানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। বৈঠকে ইরান-চীন কৌশলগত সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
আরাগচি বলেন, বর্তমান সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য নির্ধারণ করবে এবং এর প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তিনি চীনের সঙ্গে ইরানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
শি জিনপিংয়ের চার দফা প্রস্তাব কী?
চীনের প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো—
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা।
জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান: প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য: আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া।
নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ভারসাম্য: আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়া।
হরমুজ নিয়েও চীনের বার্তা
বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে ফেরার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। চীন বলেছে, হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চীন আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেন ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে না পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের অবস্থান
আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত থাকলেও এমন কূটনৈতিক সমাধানকে স্বাগত জানায়, যা ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে।
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন চীন একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা বলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ইরানি তেলের বড় ক্রেতা।
রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
নিউইয়র্কে গাজার নিহত শিশুদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ
গাজায় ‘অবিলম্বে’ যুদ্ধবিরতির আহ্বান গুতেরেসের