জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তিনি সাফ জানান, ইরান কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নয়, বরং দেশটি নিজেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বড় শিকার।
নিউ ইয়র্কে ভাষণ দেওয়ার সময় পেজেশকিয়ান বলেন, সম্মান প্রদর্শন করলে ইরান যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের হুমকি বা গায়ের জোর দেখিয়ে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়। যারা অন্য দেশের ওপর বোমাবর্ষণ করে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, তারাই মূল সন্ত্রাসী।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ শহরগুলোতে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও গত সাত মাস ধরে ইরানের সাধারণ মানুষ বীরত্বের সাথে নিজেদের জন্মভূমি রক্ষা করে চলেছে।
পারমাণবিক শক্তির বিষয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন, তারা কোনো পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার মতো শান্তিপূর্ণ কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের যে মৌলিক অধিকার তাদের রয়েছে, তা তারা ছেড়ে দেবে না।
বিশ্বরাজনীতির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও কোনো জবাবদিহি নেই, অথচ সব নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয় ইরানের ওপর। একই সাথে তিনি গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানান।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি জানান, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পর শান্তিপূ্র্ণ আবহ তৈরি হলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ী হয়নি। পাল্টা হামলার একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অবরোধ জোরদার করলে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।
সংকট যতই গভীর হোক না কেন, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশ্বকে জানিয়ে দেন যে, কোনো শক্তির হুমকির মুখে ইরান কখনোই মাথা নোয়াবে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
জাতিসংঘে ভাষণ থামিয়ে কেন স্ত্রীকে খুঁজলেন ট্রাম্প?
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব