একবিংশ শতাব্দীতে রিপাবলিকান পার্টির জন্য সবচেয়ে খারাপ দুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন ছিল ২০০৬ ও ২০১৮ সালে। ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য বড় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছিল। আর ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রীতি বদলে দেওয়া এবং তার বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বেশ কয়েকটি সূচকে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন ৩৩ শতাংশে নেমেছে। ৬৭ শতাংশ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দেন না। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদে সিএনএনের জরিপে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার।
অর্থনীতি বড় ইস্যু
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে অর্থনীতি।
সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপে মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। ৭৩ শতাংশ এ বিষয়ে তার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ভালো বলেছেন মাত্র ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা। ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সূচকে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সে সময় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ভালো বলেছিলেন।
মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অনুমোদন আরও কম। সিএনএনের জরিপে মাত্র ২০ শতাংশ তার মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার পদ্ধতিকে অনুমোদন করেছেন।
রয়টার্স/ইপসসের সেপ্টেম্বরের জরিপেও ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন ৩২ শতাংশে নেমে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ
ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে ইরান যুদ্ধ। সিএনএনের জরিপে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোট ট্রাম্পের বিরোধিতার বার্তা দেবে।
ট্রাম্পকে সমর্থনের বার্তা দিতে ভোট দেবেন বলেছেন ১৯ শতাংশ। ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ভোট ট্রাম্পকে সমর্থন বা বিরোধিতা কোনোটির বার্তা নয়।
রয়টার্স/ইপসসের আগস্টের জরিপেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন সীমিত থাকার চিত্র পাওয়া যায়। জরিপে ৩৬ শতাংশ যুদ্ধ পরিচালনার পক্ষে ছিলেন।
কংগ্রেসের ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান
সাম্প্রতিক সিএনএন জরিপে কংগ্রেসের জন্য তথাকথিত ‘জেনেরিক ব্যালট’ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের ৪৯ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ব্যবধান আট শতাংশ পয়েন্ট।
স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও বেশি। এই গোষ্ঠীতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৪ শতাংশ।
রয়টার্স/ইপসসের সেপ্টেম্বরের জরিপেও ডেমোক্র্যাটদের আট শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানের কথা উঠে এসেছে। তবে এ ধরনের জরিপে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট আসনের ফলাফল জানা যায় না। এটি জাতীয় পর্যায়ে দল দুটির প্রতি ভোটের সম্ভাব্য প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
ডেমোক্র্যাটদেরও আছে দুর্বলতা
রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল কিছু সূচক থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তাও খুব বেশি নয়। সিএনএনের জুলাইয়ের জরিপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মত ছিল ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকান পার্টির ক্ষেত্রেও এই হার ছিল কাছাকাছি, ৩১ শতাংশ।
অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ব্যাপক আস্থায় রূপ নিয়েছে—এমন চিত্র জরিপে নেই।
সিএনএনের বিশ্লেষকরাও ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের দলীয় ভাবমূর্তি ও নীতির প্রতি ভোটারদের আস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভোটের আগে বদলাতে পারে পরিস্থিতি
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে প্রার্থী, স্থানীয় ইস্যু এবং নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তাই বর্তমান জরিপগুলো মূলত এই মুহূর্তে ভোটারদের মনোভাবের একটি চিত্র দিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য ভোটের ফলের অপেক্ষাই করতে হবে।
এআই নিয়ে নতুন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন
ব্রিকসে চীন-ইরান-রাশিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ার আহ্বান
পূর্ণমাত্রার হাইব্রিড যুদ্ধের’ মুখে ইরান: আইআরজিসি কমান্ডার
মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: পেজেশকিয়ান