পূর্ণমাত্রার হাইব্রিড যুদ্ধের’ মুখে ইরান: আইআরজিসি কমান্ডার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

ইরান বর্তমানে পূর্ণমাত্রার একটি হাইব্রিড যুদ্ধের মুখোমুখি বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি। তার ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এর বিস্তৃতি রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। কারামি বলেন, দেশ বর্তমানে পূর্ণমাত্রার একটি হাইব্রিড যুদ্ধে নিয়োজিত রয়েছে।

ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষরা প্রচলিত সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। এসব মাধ্যমের মাধ্যমে ইরানের জনগণের মতামত প্রভাবিত করা এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কারামির বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাত দিনের একটি প্রস্তাবও দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক চাপ কমানো এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে একই সময়ে আইআরজিসির পক্ষ থেকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারিও অব্যাহত রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, নতুন করে হামলা হলে ইরান যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করতে পারে।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর কারামিও সতর্ক করে বলেছিলেন, শত্রুপক্ষের কোনো ভুল হিসাব বা আগ্রাসনের জবাব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্তভাবে দেবে। ফলে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে একদিকে পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে বহুমাত্রিক চাপ মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষণে হাইব্রিড যুদ্ধ বলতে সাধারণত সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ, সাইবার তৎপরতা, তথ্যযুদ্ধ, রাজনৈতিক চাপ, প্রচারণা এবং সামাজিক বিভাজন তৈরির মতো বিভিন্ন কৌশলের সমন্বিত ব্যবহারকে বোঝানো হয়। কারামিও তার বক্তব্যে শব্দটি এমন বিস্তৃত অর্থেই ব্যবহার করেছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সময়ে হরমুজকে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান, এমন বিশ্লেষণও উঠে এসেছে।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা সমন্বিতভাবে পূর্ণমাত্রার হাইব্রিড যুদ্ধ পরিচালনা করছে, কারামির এই দাবি মূলত ইরানের সামরিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বক্তব্য। তার অভিযোগের সব উপাদান স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এএস
আরও পড়ুন