জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুদ্ধ ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তার পরিস্থিতি এবং ইরান ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আরাগচি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে সেখানে জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
আরাগচি গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে তুলে ধরেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কার্যালয়ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় বিমান হামলা ও অন্যান্য হামলায় হতাহত এবং অবকাঠামোর ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও চাপের মধ্যে রয়েছে। শীত ও বর্ষা মৌসুম সামনে থাকায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচারও সেপ্টেম্বর মাসে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৈঠকে লেবাননের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। আরাগচি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও দখলদারিত্বের কারণে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘও উদ্বেগ জানিয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় বেসামরিক হতাহত, বাস্তুচ্যুতি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনা সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে তীব্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হন। হামলা ও সামরিক তৎপরতার কারণে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরাগচি ও ফ্লেচারের আলোচনায় ইরান এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। সংকটপূর্ণ এলাকায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ইরানি পক্ষ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বর্তমানে অর্থের ঘাটতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ফ্লেচার সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় জাতিসংঘের হাতে থাকা তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এর মধ্যেই আরাগচি ও জাতিসংঘের মানবিক প্রধানের বৈঠকটি মানবিক সংকটকে কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এনেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চলতি সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফলে আরাগচি-ফ্লেচারের বৈঠনে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু ইরান ও জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নয়; বরং গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাও।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৪৪৯ মামলা
খাগড়াছড়িতে মালবাহী জীপ খাদে পড়ে চালক নিহত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান
ব্যাপক সহায়তা করেছে চীন-রাশিয়া: পেজেশকিয়ান