ভারত-নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৭০, নিখোঁজ ১১

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৫৬ জন। আর নেপালে গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। দেশটিতে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় দেশটির অর্ধেকের বেশি এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উত্তর প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ভারতের উত্তর প্রদেশে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেখানে ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার, সেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ।

বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ করছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি রাজ্যটিতে আরও ৪৬ জন আহত হয়েছেন এবং এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, সাতটি রাজ্যের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী ও নর্মদাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

নেপালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ৪৯টি জেলায় আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মাহাত জানিয়েছেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এসব এলাকাকে এখনো সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়নি। গত মাসের ওই ভয়াবহ দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

এ ছাড়া রাহুগঙ্গা নদীর পানি বাড়ায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত

বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

এদিকে পৃথক একটি ঘটনায় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন।

নিখোঁজ শ্রমিকরা বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন। তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুই দেশেই নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নেপালের ৪৯টি জেলায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত