ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আহ্বান মার্কিন দূতের

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ এএম

ইরান তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে এবং পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজ বলেন, “ইরান নিয়ম ভেঙেছে এবং তার পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।” নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যকে শক্ত অবস্থান নিয়ে পরিষদের প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

ওয়াল্টজের বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। গত ৯ সেপ্টেম্বর আইএইএর ৩৫ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ‘অমান্যতা’ বা non-compliance-এর বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সময়ে ইরান তার ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনা ও পারমাণবিক উপকরণের অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি এবং এসব স্থাপনায় মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটিকে প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি। ফলে ইরানের পারমাণবিক উপকরণের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার সক্ষমতা আইএইএর সীমিত হয়ে পড়েছে।

আইএইএর সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি সমর্থন জানায়। অন্যদিকে রাশিয়া, চীন ও নাইজার প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

ইরান অবশ্য আইএইএর পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া-চীনের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ১ অক্টোবর ওয়াল্টজ জানান, ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। রাশিয়া ও চীন এর আগে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর মার্কিন উদ্যোগে ভেটো দিয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আগের কয়েকটি প্রস্তাবে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করা এবং আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন দাবি ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এ বিষয়ে ছয়টি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল নিরাপত্তা পরিষদ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইএইএর পর্যবেক্ষণ-সক্ষমতা, ইরানের সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয়ই পারমাণবিক বিরোধের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আইএইএ ও পশ্চিমা দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আসছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত