ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌ ও সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এই মোতায়েনে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি, প্রায় ২০ হাজার সেনা, ১৫০টি পর্যন্ত যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষম একাধিক ডেস্ট্রয়ার থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের জন্য বিভিন্ন বিকল্প উন্মুক্ত রাখতেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন করে ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এই সামরিক প্রস্তুতি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
পরিকল্পনায় রয়েছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। এসব রণতরির সঙ্গে থাকবে নিজ নিজ এসকর্ট জাহাজ ও অন্যান্য সহায়ক সামরিক ইউনিট।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে আরব সাগরে এবং জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় রয়েছে। অন্যদিকে থিওডোর রুজভেল্ট সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে।
তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একত্র হলে এতে প্রায় ২০ হাজার সামরিক সদস্য, সর্বোচ্চ ১৫০টি যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও প্রতিরোধে সক্ষম একাধিক ডেস্ট্রয়ার থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ক্যারিয়ার বহরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠিয়েছে। এতে রয়েছে ইউএসএস জন পি. মুর্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজসহ উভচর যুদ্ধজাহাজ।
এই গ্রুপে ৪ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন রয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ রয়েছে। ফলে কয়েকটি নৌবহরের মোতায়েন সাময়িকভাবে একে অপরের সঙ্গে ওভারল্যাপ করতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সব সেনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। কিছু নতুন জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে থাকা পুরোনো জাহাজের স্থলাভিষিক্তও হতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও নতুন মোতায়েন করা জাহাজগুলোর কিছু পুরোনো ইউনিটকে প্রতিস্থাপন করতে পারে।
এই সামরিক প্রস্তুতির খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। টাইম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা বাড়ানো হতে পারে। একই সময়ে ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নৌবাহিনীতে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন এবং শত শত বিমান রয়েছে বলে AP জানিয়েছে। নতুন জাহাজগুলো যুক্ত হলে অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌ উপস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিন রণতরির সম্ভাব্য মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ও সামরিক কমান্ডারদের হাতে আরও বেশি বিকল্প রাখা। অর্থাৎ এটি সরাসরি নতুন হামলার সিদ্ধান্তের সমান নয়।
বরং কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে বা সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর সিদ্ধান্ত হলে এই বাহিনীর একটি অংশ অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া কিংবা ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা জাহাজের জায়গায় ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, শতাধিক যুদ্ধবিমান ও বিপুলসংখ্যক নৌসদস্য একই অঞ্চলে উপস্থিত হলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত নতুন হামলার পথে যাবে, নাকি এই শক্তিকে চাপ ও প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করবে—তা আগামী সপ্তাহগুলোতে স্পষ্ট হতে পারে।
ক্ষমা না চাইলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘আরও ব্যবস্থা’: দক্ষিণ কোরিয়া
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটকে 'ইসলামপন্থী উগ্রবাদী', দাবি নেতানিয়াহুর