ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে বাড়ছে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি: জাতিসংঘ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

ইয়েমেনে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের মাঝে মারাত্মক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তা ও তহবিল বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানায়, সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের মাঝে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে মানবিক সাহায্যকারী দলগুলো।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, "হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় এবং রোগের ঝুঁকি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তহবিল ও নির্বিঘ্ন নিরাপদ প্রবেশাধিকারসহ পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের বাস্তুচ্যুতি শিবির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী ইউনিট জানায়, গত জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার জেরে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজারে পৌঁছেছে।

ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, তীব্র খাদ্যসংকট, নিরাপদ পানির অভাব এবং পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনুপস্থিতির মধ্যে এই নতুন করে বাস্তুচ্যুতি দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) সতর্ক করে বলেছিল যে, সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সুবাদে কিছুদিন তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ বজায় থাকলেও, গত জুলাই মাস থেকে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই গৃহযুদ্ধ চলছে। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তার জন্য মাঠে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট।

সূত্র: আনাদোলু

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত