ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন হামলার অভিযোগে আটক ওমানি কো-পাইলট। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই সন্দেহভাজন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিসি নিউজ জানায়, জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি এর আগে ওমান এয়ারের হয়ে উড্ডয়ন থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে কো-পাইলট প্রশিক্ষণার্থী থাকাকালে তার কাছে চরমপন্থী বিষয়বস্তু পাওয়ার পর তাকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এমন সতর্কতার পরও কীভাবে তিনি পরবর্তী সময়ে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজের অনুমতি পেলেন এবং ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন।
ফ্লাইদুবাই শুক্রবার জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা তেলআবিবগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্রপন্থায়’ জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাকে অন্য কেউ এই হামলার জন্য পাঠিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, তাকে কেউ পাঠিয়েছিল কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। আর কেউ পাঠিয়ে থাকলে তাকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে। তবে এ বক্তব্যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তদন্তকারীরা ঘটনাটিতে ইরানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তেহরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে।
তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজনের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনেও ইরানের সম্পৃক্ততাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
তুরস্কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানি এয়ারলাইনের ৮৩ ফ্লাইট
যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে ‘বেদনাদায়ক ও ধ্বংসাত্মক’: আইআরজিসি