উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করা প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে যৌন সহিংসতার শিকার হন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত সীমান্ত অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ততক্ষণ আশ্রয়প্রার্থীরা নিপীড়নের শিকার হবেন। উত্তর ফ্রান্সের ডিঙি নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকা নারীদের প্রায় সবাই এই নির্মমতার শিকার হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, অপরাধী চক্রগুলো মানবপাচারের সাথে সরাসরি যুক্ত এবং তারা নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হুমকি ও যৌন নিপীড়ন করে থাকে। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা কোনোভাবেই অপরাধীদের হাতে থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
চাদর বা মুখোশ পরা উগ্র ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘৃণা করে বলেও উল্লেখ করেন মাহমুদ। তিনি জানান, মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে সত্যিকারের ব্রিটিশ মনে করে না এসব গোষ্ঠী এবং সুযোগ পেলে তারা ক্ষতি করতে পারে।
ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার পর কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার মধ্যেও তীব্র অস্বস্তি কাজ করছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে, গত রবিবার ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে দক্ষিণ উপকূলের দিকে আরও একটি অভিবাসীবাহী নৌকা এগিয়ে আসতে দেখা যায়। ফরাসি কোস্টগার্ডের নজরদারিতে থাকা এই নৌকাটি নরম্যান্ডির ইউটাহ বিচ এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিফিউজি কাউন্সিলের পরিচালক ইমরান হুসেইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নিরাপদ ও বৈধ পথ বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি নীতির সমালোচনা করে তিনি নারীদের সুরক্ষায় আইনি পথ উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি
পঞ্চগড় থেকে সাইকেলে সিলেটের পথে ২৬ ব্রিটিশ নাগরিক