এসসিওর সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ায় নিরাপত্তা সমন্বয়ই প্রধান লক্ষ্য: আইআরজিসি

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক মহড়ার প্রধান লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার করা এবং উগ্রপন্থী ও সহিংস গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করা বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গ্রাউন্ড ফোর্সের অপারেশনবিষয়ক উপ-কম্যান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভালি মাদানি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মিনস্কে অনুষ্ঠিত ‘ইউরেশিয়া-অ্যান্টি টেরর ২০২৬’ মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদানি বলেন, এই মহড়ার মাধ্যমে এসসিওভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অভিন্ন হুমকি হিসেবে বিবেচিত উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড ও সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলায় যৌথ সক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান

আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মহড়াটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা কূটনীতি শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।

ইরানের দৃষ্টিতে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থার মতো আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় একক কোনো দেশের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাদানি বলেন, উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো মহড়াটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মিনস্কে তিন দিনের সামরিক মহড়া

‘ইউরেশিয়া-অ্যান্টি টেরর ২০২৬’ নামের তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক মহড়ার আয়োজক বেলারুশ। এতে এসসিওর ১৪টি সদস্যদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কমিটি অংশ নিচ্ছে। শতাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন বলে আইআরএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্সের বিশেষ ইউনিটগুলো দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছে।

মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নিজের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরছে।

সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় এসসিও

এসসিও মূলত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক সংগঠন। মধ্য এশিয়া ও বৃহত্তর ইউরেশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সংগঠনটির ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সহযোগিতা এসসিওর নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন সময়ে সদস্য দেশগুলো যৌথ মহড়া, তথ্য বিনিময় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

এর আগে ইরানেও এসসিওর মহড়া

ইরান এর আগে এসসিওর ‘সাহান্দ ২০২৫’ নামের সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ার আয়োজন করেছিল। তেহরানের এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে ইরানের আগ্রহের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবার বেলারুশে অনুষ্ঠিত মহড়ায় ইরানের বিশেষ ইউনিটের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে দেশটির সরকারি সূত্রের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন বাস্তবতা

বর্তমান সময়ে মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও বৃহত্তর ইউরেশীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকির ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় ‘ইউরেশিয়া-অ্যান্টি টেরর ২০২৬’ মহড়ায় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণকে শুধু একটি সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ইরানের জন্য এই মহড়ায় অংশগ্রহণের আরেকটি তাৎপর্য হলো—চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতির মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে চাইছে।

এমইউ
আরও পড়ুন