ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি হুথিদের কাছে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি পৌঁছানো বন্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের দাবি জানিয়েছে সরকার।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইয়েমেনের জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-সাদি এ আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল।
ইয়েমেন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যাত্রী, বিমানবন্দরের কর্মী ও উড়োজাহাজের জীবন ও নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়ে। দেশটির সরকার ঘটনাটিকে বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর বিপজ্জনক হামলা এবং চলমান সংঘাতের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছে।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার সময় কায়রো থেকে আসা একটি ফ্লাইট অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের একটি রানওয়ের কাছে আঘাত হানায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটির অবতরণ বাতিল করা হয় এবং সেটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল খালি করা এবং রানওয়েতে থাকা দুটি উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার দায় ও লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ইয়েমেনের সরকার বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুললেও হুথিরা বলেছে, বিমানবন্দরের কাছে বদর সামরিক শিবিরে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আল-সাদি নিরাপত্তা পরিষদকে হুথিদের কাছে অর্থায়ন, অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির প্রবাহ কমাতে ‘সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়া সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৪ সালের ২১৪০ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় ইয়েমেনের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রয়েছে। এর আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র, সংশ্লিষ্ট সামগ্রী, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সরবরাহ ঠেকানোর বিধান রয়েছে।
ইয়েমেনে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা
এডেন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সংঘর্ষ তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, দেশটি আবারও ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ দিকে ফিরে গেছে। তাঁর মতে, সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।
গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌনিরাপত্তার ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব: এডেন বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করা—এই তিনটি বিষয় এখন আন্তর্জাতিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নিরাপত্তা পরিষদ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিতর্ক উড়িয়ে মাঠে নেমেই গোল করলেন রোনালদো
ইরানে কেন বাড়ছে মৃত্যুদণ্ড?
পানামায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ফ্লাইট বন্ধ