স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় ৭২ শ্রমিক নিহত

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের একটি স্বর্ণখনিতে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন সাধারণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সুদানের যুদ্ধকালীন অপরাধ ও নৃশংসতা নথিবদ্ধকারী মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ (Emergency Lawyers) এই হামলার জন্য সরাসরি মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে।

খর্তুমভিত্তিক ওই মানবাধিকার সংগঠনটি রোববার (১১ অক্টোবর ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুদানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তর ওয়াদি এলাকার একটি বেসামরিক স্বর্ণখনিতে মিশরের যুদ্ধবিমানগুলো এই হামলা চালায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এতে ৭২ জন বেসামরিক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই হামলার খবরটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মিশর সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

পাহাড়ি ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ জাবাল আল-উকাইদাত (Jabal al-Uqaydat) সীমান্ত অঞ্চলে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে গত জুনেও একই এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। সে সময় মিশরীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে তারা তাদের নিজস্ব সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে একটি "বড় আকারের অভিযান" চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, সুদান ও মিশরের মধ্যকার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকায় খনিজ সমৃদ্ধ 'হালায়েব ট্রায়াঙ্গেল' অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও অবৈধ খনি শিল্প

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে দুই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটিতে চরম মানবিক সংকট তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে এই স্বর্ণখনিগুলোতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। উভয় পক্ষই তাদের যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর জন্য এই স্বর্ণখনিগুলোর ওপর পরোক্ষভাবে নির্ভর করে আসছে।

ইমার্জেন্সি লয়ার্স অভিযোগ করেছে যে, খনিজ সমৃদ্ধ সীমান্ত অঞ্চলে বারবার এই ধরনের হামলা চালিয়ে সুদান ও মিশরের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে কায়রো। তবে মিশর মনে করে, লোহিত সাগর থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের এই ছিদ্রযুক্ত সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচার, অবৈধ বাণিজ্য ও অস্ত্র চোরাচালান তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ কারণেই তারা এর আগে কঠোর অভিযান ও গণ-বহিস্কারের মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত