যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা ভেঙে দিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী-এমন দাবি করেছেন দেশটির সাবেক সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি। তার ভাষ্য, রুশ সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলোতে আক্রমণের কৌশলের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পেরেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সিরস্কি। গ্রীষ্মে দায়িত্ব হারানোর পর এটিই ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারে দায়িত্ব থেকে অপসারণ, যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল এবং তার নেতৃত্ব নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। সমালোচকেরা তাকে ইউক্রেনের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘সনাতনপন্থী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সেই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি।
রুশ সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দাবি
সিরস্কির দাবি, যুদ্ধে রাশিয়ার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের তুলনায় ছয় গুণ বেশি। শুধু নিহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে এ ব্যবধান ১১ গুণ পর্যন্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন কোনো দেশই যুদ্ধে নিজেদের নিহত সেনাদের পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব প্রকাশ করে না। ফলে সিরস্কির দেওয়া পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে রুশ সেনাদের ওপর তারা রেকর্ডসংখ্যক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। তবে এ দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার প্রায় পাঁচ লাখ সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা দেড় লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
সম্মুখসারিতে স্থবিরতা
সিরস্কির মতে, রুশ সেনাদের তুলনামূলক বেশি প্রাণহানি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সামরিক কৌশলের পরিবর্তন যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমান অচলাবস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তার ব্যাখ্যা, ইউক্রেন একদিকে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে রাখছে, অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বল অংশগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়া সব মিলিয়ে মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে পেরেছে। তার মতে, এটি সম্মুখসারির স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) প্রতিবেদনেও রাশিয়ার অগ্রযাত্রা সীমিত হওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরের এক মূল্যায়নে বলা হয়, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া যত এলাকা দখল করেছে, তার চেয়ে বেশি এলাকা হারিয়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের জবাব
সাক্ষাৎকারে সিরস্কি তার অধীনে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সেনার অভিযোগেরও জবাব দেন। ওই সেনাদের অভিযোগ ছিল, রুশ বাহিনীর হাতে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেও তাদের নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সিরস্কি এসব অভিযোগের সমালোচনামূলক প্রেক্ষাপটে নিজের নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে সামরিক অগ্রগতি পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু দখল করা ভূখণ্ড বা হতাহতের সংখ্যা নয়, বরং সরবরাহব্যবস্থা, জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থার স্থায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সিরস্কির বক্তব্য ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে তার মূল্যায়ন তুলে ধরলেও, রাশিয়ার অগ্রযুদ্ধের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে কি-না, তা নির্ধারণে আরও স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
মিসর ও ইরাকের সঙ্গে আরাঘচির কী আলোচনা?
বুলগেরিয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে ১১ নাবিক নিখোঁজ
সৌদি রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন?
যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভেতরে ককোরোচ নেতারা