কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আলবার্টা প্রদেশের বাসিন্দাদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, বিশ্ব ক্রমেই বিপজ্জনক ও বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এমন সময়ে কানাডার ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আলবার্টার এডমন্টনের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে কার্নি বলেন, ‘এখানে ঝুঁকি অনেক বড়।’ তার মতে, প্রদেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—এমনভাবে ভোট দিন, কারণ সত্যিই তা নির্ভর করছে।’
এডমন্টনের এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, দেশের সীমান্তের বাইরেও এমন কিছু পক্ষ রয়েছে, যারা কানাডাকে বিভক্ত করতে কাজ করছে।
আগামী সোমবার আলবার্টায় ১০টি প্রশ্নে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দশম প্রশ্নটি হলো- আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবেই থাকবে, না-কি স্বাধীনতার বিষয়ে দ্বিতীয় একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রথম বিকল্পে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিতে হবে। দ্বিতীয় বিকল্পে আলবার্টার স্বাধীনতা নিয়ে পরবর্তী বাধ্যতামূলক গণভোটের প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দেওয়া যাবে।
বাকি নয়টি প্রশ্ন অভিবাসন, নতুন অভিবাসীদের জন্য পরিষেবা এবং সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। কার্নি মনে করেন, ভোটার উপস্থিতি গণভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তাই তিনি সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নে শুধু অসন্তোষ প্রকাশের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া বিপজ্জনক কৌশল। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং আলবার্টা ও কানাডা উভয়ই সম্ভাব্য সুযোগ হারাতে পারে।
ঐক্যের প্রশ্নে একমত কার্নি ও ড্যানিয়েল স্মিথ
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের সঙ্গে এদিন রেড ডিয়ারের একটি ব্রুয়ারিতেও উপস্থিত হন কার্নি। সেখানে দুই নেতা কানাডার সঙ্গে আলবার্টার থাকার পক্ষে যৌথ বক্তব্য দেন। স্মিথ বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু দশম প্রশ্নে তারা একমত, আলবার্টার কানাডার অংশ হিসেবেই থাকা উচিত।
তার ভাষায়, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করি। কিন্তু আজ আমরা সবাই একমত হতে পারি যে দশ নম্বর প্রশ্নে আমরা প্রথম বিকল্প- কানাডায় থাকার পক্ষে ভোট দিচ্ছি।’ স্মিথের মতে, দীর্ঘদিন পর আলবার্টা ও কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার আবারও একসঙ্গে কাজ করার পথে এগোচ্ছে। কার্নিও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আলবার্টার আস্থা বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষার মুখে পড়েছে। তবে এখন প্রদেশ ও কেন্দ্রের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই একই দিকে এগোচ্ছে।
পাইপলাইন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি
আলবার্টার সঙ্গে যৌথভাবে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কার্নি। এর মধ্যে ‘প্যাসিফিক লিংক’ তেল পাইপলাইন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দুই নেতা পানি ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সমন্বয় বাড়লে আলবার্টার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সহজ হবে।
তবে কানাডার সঙ্গে থাকা নিয়ে একমত হলেও গণভোটের বাকি নয়টি প্রশ্নে কার্নি ও স্মিথের অবস্থান আলাদা। স্মিথ অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলবার্টার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে কার্নি ওই নয়টি প্রশ্নে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্মিথ বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন।
স্বাধীনতার পক্ষেও রয়েছে সমর্থন
গণভোটের আগে আলবার্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমত একমুখী নয়। রেড ডিয়ারের সমাবেশে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের সমর্থকদের পাশাপাশি স্বাধীনতার ধারণার প্রতি সমর্থন জানানো ব্যক্তিদেরও দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা কেলসি পিটারসেন জানান, তিনি কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে নন। তবে আলবার্টার জন্য আরও ভালো সমঝোতা আদায়ের আশায় দশম প্রশ্নে দ্বিতীয় বিকল্পে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে রেড ডিয়ারের মেয়র সিন্ডি জেফেরিজ বলেন, গণভোট ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি প্রদেশে স্থিতিশীলতা চান।
কার্নি সমাবেশে লাল রঙের বোনা একজোড়া হাতমোজাও তুলে ধরেন। রেড ডিয়ারে তৈরি ওই হাতমোজার নকশা করেছিলেন অন্টারিওর একজন নকশাকার, আর সুতা এসেছিল নিউ ব্রান্সউইক থেকে। তিনি একে কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। আলবার্টার গণভোটে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কী সিদ্ধান্ত নেন, তা শুধু প্রদেশটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কেই নয়, কানাডার জাতীয় ঐক্য, অভিবাসননীতি ও কেন্দ্র-প্রদেশ সম্পর্কের বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্তের দায় নেতানিয়াহুর: মার্কিন কংগ্রেসম্যান
সৌদি আরবের খাদ্য নিরাপত্তায় জাজানের কৃষির ভূমিকা
ইরান যুদ্ধে ইউরোপের ক্ষতি ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
রুশ লেফটেন্যান্টের তথ্যেই ইউক্রেনের হামলা, নিহত ৩০০ সেনা
হুথিদের হামলায় ইরানকে দায়ী করলো সৌদি আরব