কৃষ্ণসাগরে যাচ্ছে তুরস্কের বিশাল গ্যাস প্ল্যাটফর্ম, উৎপাদন দ্বিগুণের লক্ষ্য

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে তুরস্ক। দেশটির প্রথম ভাসমান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যাটফর্ম ‘ওসমান গাজি’ কৃষ্ণসাগরে নির্ধারিত কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এটি চালু হলে কৃষ্ণসাগরের সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন দ্বিগুণ করে ২ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে তুরস্ক সরকার। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জোংগুলদাক প্রদেশের ফিলিওস বন্দর থেকে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তা দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের জ্বালানির ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করছি। ভাসমান শিল্পকারখানার মতো ওসমান গাজিকে কৃষ্ণসাগরে তার কর্মস্থলে পাঠাচ্ছি।’

এরদোয়ানের ভাষায়, তুরস্কের ‘সেঞ্চুরি অব তুরস্ক’ পরিকল্পনার সামুদ্রিক রূপকল্প ‘ব্লু হোমল্যান্ড’-এর প্রথম উৎপাদন স্থাপনা এই প্ল্যাটফর্ম। প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। 

দিনে ২ কোটি ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য

ওসমান গাজিতে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ২১টি পৃথক ইউনিট রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি কৃষ্ণসাগরের তলদেশে অবস্থিত সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রের কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করবে। এরপর সমুদ্রতলের পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস তুরস্কের মূল ভূখণ্ডে ফিলিওসের স্থাপনায় পাঠানো হবে।

বর্তমানে সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ লাখ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদিত হয়। প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে উৎপাদন বাড়িয়ে দৈনিক ২ কোটি ঘনমিটারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে দেশটির প্রতি তিনটি পরিবারের একটি পরিবার নিজস্ব উৎসের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে। সরকারি হিসাব বলছে, দেশীয় গ্যাসের মাধ্যমে সরবরাহ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

২০ বছর কাজ করবে সমুদ্রে

ওসমান গাজি প্ল্যাটফর্মটির দৈর্ঘ্য ২৯৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৫৬ মিটার এবং গভীরতা ২৯ দশমিক ৫ মিটার। এতে একসঙ্গে ১৪০ জন কর্মীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের উপকূল থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত স্থানে প্ল্যাটফর্মটি টানা ২০ বছর কাজ করার জন্য পরিকল্পিত। এটি শুধু গ্যাস উত্তোলনের কাজে সহায়তা করবে না; উত্তোলিত গ্যাসকে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় প্রক্রিয়াজাত করে জাতীয় সরবরাহব্যবস্থায় পাঠানোর কাজও করবে।

তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি দেশটির অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের অবদান রাখতে পারে। তবে এটি সরকারি প্রত্যাশা ও হিসাবভিত্তিক প্রাক্কলন; প্রকৃত অর্থনৈতিক অবদান উৎপাদন, গ্যাসের দাম ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে।

জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে তুরস্ক

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ভাসমান উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এরদোয়ান। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে প্ল্যাটফর্মটির নাম ‘ওসমান গাজি’ রাখা হয় এবং সেটিকে ইস্তাম্বুল থেকে ফিলিওস বন্দরে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরীক্ষা ও প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হয়।

তুরস্ক সরকার এই প্রকল্পকে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম শুরু, গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কার্যকারিতার ওপর।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত