কঙ্গোতে ইবোলা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকার প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরনটির বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর কি না, তা যাচাই করতে এ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ‘এরভেবো’ (Ervebo) টিকা দেওয়া হয়েছে। ইতুরি প্রদেশই বর্তমানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কেন্দ্র।

এরভেবো টিকাটি ইবোলা ভাইরাসের তুলনামূলক বেশি পরিচিত ‘জায়ার’ ধরনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তবে এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বান্দিবুগিও’ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধেও টিকাটি সুরক্ষা দিতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

তেদরোস বলেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি বিভিন্ন সম্ভাব্য টিকা কার্যকর কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের এ উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো সরকারের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমকে সহযোগিতা করছে।

গত মে মাসে ডিআর কঙ্গো দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে ৯ হাজার ৭০০-এর বেশি সংক্রমণের ঘটনা এবং ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, যা সংস্থাটির সর্বোচ্চ সতর্কতার ঠিক নিচের স্তর।

বর্তমান প্রাদুর্ভাব পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আফ্রিকায় ইবোলার কোনো প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক বিস্তার।

পরীক্ষায় যুক্ত হতে পারে আরও দুটি টিকা

‘তুমাইনি’ নামের এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে একাধিক টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং শরীরে রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এতে ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা এবং সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হবে।

পরীক্ষায় বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আরও দুটি সম্ভাব্য টিকা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের ছোট পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে।

এর একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ‘ChAdOx1’ অ্যাডেনোভাইরাসভিত্তিক টিকা। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ ও জীবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা। মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোট (সিইপিআই) জানিয়েছে, তাদের অর্থায়নে তৈরি এই দুই টিকাও শিগগিরই পরীক্ষায় যুক্ত হতে পারে।

এই পরীক্ষায় গর্ভবতী নারী এবং ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাধারণত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেসব জনগোষ্ঠী কম সুযোগ পায়, তাদের ক্ষেত্রেও টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়াজু বলেন, ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সংশ্লিষ্ট টিকাগুলো সুরক্ষা দিতে পারে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করতেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত