ইসরায়েলে নির্বাচন

ভোট দিয়ে ৭৪ বছর বয়সী ইয়োসি বললেন ‘নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের পরিণতি, সরকারের জবাবদিহি এবং দেশের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা তাঁর নিরাপত্তানীতি ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী সমর্থকদের একাংশ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতা, জিম্মি সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এমন বিভক্তির চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইহুদি টেলিগ্রাফিক এজেন্সির (জেটিএ) প্রতিবেদনে ভোটারদের বিভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

‘নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার’

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনার কয়েকজন ভোটারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। শহরটি দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

একসময় লিকুদকে সমর্থন করা ৭৪ বছর বয়সী ইয়োসি আসায়াগ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরিবর্তন চান। তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের অবস্থান ভিন্ন। অবসরপ্রাপ্ত ভোটার রুতি ওহানা জানিয়েছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের পর ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি লিকুদকে ভোট দিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় চাপানো অন্যায্য।

এই দুই বিপরীত অবস্থান দেখায়, নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও অসন্তোষ থাকলেও তাঁর প্রতি আনুগত্য এখনো রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিবুতজ বেইরির বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বেইরির বাসিন্দা গাল কোহেন মনে করেন, ওই হামলার পর নেতানিয়াহুর দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় থাকলে অনেক মানুষের হতাশা আরও বাড়বে।

অন্য বাসিন্দা মিরি গাদ মেসিকা নেতানিয়াহুকে আর ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, ইসরায়েলে বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে তাঁরও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকলেও বিরোধী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কতটা, সেটিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা

ইহুদি টেলিগ্রাফিক এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের মধ্যেও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা উঠে এসেছে। ১৮ বছর বয়সী ইয়ায়েল চেরনিভস্কি বলেছেন, তিনি দেশের ভবিষ্যৎ বদলানোর আশায় ভোট দিতে চান। তাঁর সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের একই ধরনের সরকার, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

তবে সব তরুণের অবস্থান এক নয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কারও কাছে জাতীয় নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবার কেউ জীবনযাত্রার ব্যয়, উচ্চশিক্ষার খরচ এবং সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের তথ্য উদ্ধৃত করে জেটিএ জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী আনুমানিক ৬ লাখ ৪০ হাজার ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার যোগ্য। ভোটে তাঁদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরব ভোটারদের প্রত্যাশা

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের মধ্যেও ভোটের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে আরব-প্রধান শহর নাজারেথের রাজনীতিক মানসুর আব্বাস বলেছেন, বেশি ভোটার উপস্থিতি সরকার গঠনের সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

আরব ভোটারদের একাংশ নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি বরাদ্দ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন। তবে ভবিষ্যৎ সরকারে আরব দলগুলোর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ভোটারদের প্রতিক্রিয়ায় যে চিত্র

ভোটারদের বক্তব্যে তিনটি বড় বিষয় স্পষ্ট—নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, বর্তমান নেতৃত্বের জবাবদিহির দাবি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই; তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থকদের একটি অংশ এখনো তাঁর পাশে রয়েছে।

প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সতর্কতা: এই সংবাদে উদ্ধৃত বক্তব্যগুলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের দেওয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা ভোটারদের নির্দিষ্ট তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এগুলোকে উপস্থাপন করা হয়নি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভোটারদের প্রতিক্রিয়া আলাদা সংবাদ হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন