যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধের আশঙ্কা বিরাজ করার পর কূটনৈতিক আলোচনায় আশার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর যেকোনো অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি।
আলজাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে পারসি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ‘আশার ক্ষীণ আলো’ দেখতে পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে যখন দুই দেশ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন উত্তেজনা কমার যেকোনো অগ্রগতিই স্বাগত জানানোর মতো। তবে আশার এই আলো দেখা যাচ্ছে, কারণ ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে তুলনামূলকভাবে আরও বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।’
পারসির মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতির জন্য ‘নির্ণায়ক’ হতে পারে। তবে ইসরায়েল এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, কূটনৈতিক অগ্রগতি ইসরায়েলের কাছে খারাপ খবর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, তাঁর অভিযোগ, সংবেদনশীল মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতি নস্যাৎ করে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইসরায়েলের।
পারসির এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক চিঠির ভাষা আগের চিঠিপত্রের তুলনায় ভিন্ন। তাঁর মতে, এটি ‘খুবই ইতিবাচক লক্ষণ’।
এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি পরিকল্পনায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে দুই দিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহেই বোঝা যাবে, দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর পথে এগোবে, নাকি আবারও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
সূত্র: আলজাজিরা
রাজধানীতে ৯৮ বাস রুট কমে হচ্ছে ৩২, ছয়টি চালু আজ
জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা, দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট