মধ্যবর্তী নির্বাচনে তেহরান রিপাবলিকানদের হারিয়েছে: ইরান

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়কে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন ইরানের নেতারা। তাদের দাবি, মার্কিন ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাই এই নির্বাচনে শুধু ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হননি, বরং ইরানের প্রতিরোধও রাজনৈতিকভাবে সফল হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দেশটির প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে, আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে, আমরাও এই বার্তাকে সমর্থন করি।’

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও ‘ব্ল্যাকমেইলারদের’ স্বার্থে নিজেদের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাদের ইরানের ‘না’ বলার পরিণতি দুঃস্বপ্নের মতো হবে। গালিবাফের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানই আবার সামনে এসেছে। তেহরানের ভাষ্য- ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মূলত ইসরায়েলের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। এই যুদ্ধ আমেরিকার সাধারণ মানুষের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে ওয়াশিংটনের উচিত নিজেদের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ইরানের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধানও মার্কিন নির্বাচনের ফলকে ইরানি জাতির বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তেহরানের রাজনৈতিক মহলে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় কেবল দলীয় সাফল্য নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি ও যুদ্ধকৌশলের বিরুদ্ধেও একটি বার্তা। নির্বাচনের ফলাফলও এই রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে আলোচনায় এনেছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মানতে রাজি হননি। তার বক্তব্য, ইরান ইস্যু নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেললেও তিনি মনে করেন, দেশটির বিরুদ্ধে তার নেওয়া পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশ্লেষকদের কাছে নির্বাচনের ফলাফলের তাৎপর্য শুধু দলীয় ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষ, সব মিলিয়ে ভোটারদের মনোভাব বদলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে সরাসরি ইরানের বিজয় বলা রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রতিষ্ঠিত কোনো নির্বাচনী সত্য নয়। মার্কিন ভোটাররা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ইস্যু বিবেচনায় ভোট দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ তার অন্যতম আলোচিত কারণ হলেও একমাত্র কারণ নয়। তবু তেহরানের কাছে এই ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন যুদ্ধের লক্ষ্য, ব্যয়, কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। ইরানের নেতারা সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই নিজেদের অবস্থানের পক্ষে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

জেএম
আরও পড়ুন