হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার ও টাগবোটে আগুন, দুটি মার্কিন ড্রোন জব্দ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে দুটি মার্কিন নির্মিত লুকাস ধরনের ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জব্দ করার দাবি করেছে বাহিনীটি।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতির বরাতে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও আইআরজিসির বরাত দিয়ে দুটি ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার খবর প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসির দাবি, বুধবার রাতে পৃথক দুটি ঘটনায় জাহাজগুলো আগুনের কবলে পড়ে। প্রথম ঘটনায় একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নৌমাইনে আঘাত পায়। এরপর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় প্রণালির পূর্ব দিকের করিডর দিয়ে বের হওয়ার সময় আরেকটি সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে কাছে যাওয়া একটি টাগবোটও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট দুটি অনুপ্রবেশকারী LUCAS ধরনের চালকবিহীন আকাশযানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে ড্রোন দুটিকে নিরাপদে অবতরণ করিয়ে জব্দ করা হয়। তবে ড্রোন দুটি কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি বাহিনীটি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মাইন পাতা পথে চলাচলে উৎসাহিত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের বিমা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন করদাতা ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলা হয়, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করলে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি ও বিমা বাবদ সৃষ্ট ব্যয়ের তুলনায় কম খরচেই সংকট এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ম লঙ্ঘনের চেষ্টা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আর্থিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি আইআরজিসির বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জাহাজগুলোর নাম, মালিকানা, পতাকাবাহী দেশ, ক্রুদের অবস্থা কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। ড্রোন জব্দের দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে ঘটনাগুলোকে আপাতত আইআরজিসির দেওয়া তথ্য ও দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত