জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

দামি ফল হতে যাচ্ছে কলা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০৪:১২ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কলা আরও বেশি দামি ফল হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্বের একজন শীর্ষ বিশেষজ্ঞ বিবিসি নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ওয়ার্ল্ড ব্যানানা ফোরামের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ পাসক্যাল লিউ বলেছেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পরা রোগের প্রভাব কলার পর্যাপ্ত সরবরাহকে বাধাগ্রস্থ করবে। যা বিশ্বের কলা উৎপাদন শিল্পের জন্য হুমকি স্বরুপ। এই ফলটি উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মঙ্গলবার রোমে এক বৈঠকে মিলিত হন এই ফোরামের সদস্যরা। 

সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বেশ কিছূ দোকানে কলার ঘাটতি দেখা দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাস উষ্ণতার দিক থেকে রেকর্ড সৃষ্টি করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় চাষ করা স্যামন মাছের গণমৃত্যু বেড়েছে। 

পুষ্টিকর ও সুস্বাদু কলা বিশ্বে সর্বাধিক রপ্তানিকৃত এবং সহজলভ্য ফল। যুক্তরাজ্য প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন কলা আমদানি করে। যার প্রায় ৯০ শতাংশ বড় সুপারমার্কেটগুলোর মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি সুপারমার্কেটে কলার ঘাটতি দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছিল সমুদ্রে ঝড়ের কারণে কলার সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। 

বিশেষজ্ঞরা উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ছড়িয়ে পড়া রোগগুলি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের একটি আমব্রেলা গ্রুপ, যেটি সারাবিশ্বের কলার খুচরা বিক্রেতা, উৎপাদক, দেশ, রপ্তানিকারক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্টেক হোল্ডারদের একত্রিত করে ‘বিশ্ব ব্যানানা ফোরাম’ গঠন করে।

এই ফোরামের বিশেষজ্ঞ মি. লিউ বলেছেন, ‘আমি মনে করি জলবায়ু পরিবর্তন সত্যিই কলা খাতের জন্য বিশাল হুমকিস্বরূপ। পাশাপাশি মারাত্মক আবহাওয়া কলার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতি কলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতি তাপমাত্রা কলাগাছকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কলাগাছের নানা ধরনের রোগ ছড়াতে সাহায্য করে। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হলো ‘ফুসারিয়াম উইল্ট টিআর ফোর’ নামক একটি ছত্রাক সংক্রমণ, এটি অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়া থেকে আফ্রিকা এবং বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় চলে গেছে। এই ছত্রাক একটি বাগানে সংক্রমিত হলে বাগানের সমস্ত কলাগাছকে মেরে ফেলে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফুসারিয়াম উইল্ট ছত্রাকের স্পোরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এগুলো বন্যা, প্রবল বাতাস বা ঝড়ের সময় ছড়িয়ে পড়ে। 

যদি এই চরমভাবপন্ন আবহাওয়া বিদ্যমান থাকে তাহলে আগামী বছরগুলোতে কলার দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে করে পুষ্টির যোগান দেয়া সস্তা ও সহজলভ্য কলা নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

RY/AST
আরও পড়ুন