হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায়

ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে ব্রিটেন-জার্মানি-গ্রিসের প্রত্যাখ্যান

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিস। মিত্র দেশগুলো এই অঞ্চলে কোনোভাবেই বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো যদি এই অঞ্চলে সামরিক সহযোগিতা না করে, তবে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের হুমকির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে অংশ নেবে না। তিনি বলেন, ‘ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ব্রিটেন নিজেকে কোনো ব্যাপক সংঘাতের অংশ হতে দেবে না এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।’

জার্মান সরকারের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। জার্মানির এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোনো অভিযানেও যোগ দেবে না।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি কোনোভাবেই সামরিক শক্তি প্রয়োগের কোনো প্রচেষ্টায় অংশীদার হবে না।

একই সুর শোনা গেছে গ্রিসের কণ্ঠেও। গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়ানোর পরিকল্পনা করছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্র দেশগুলোর এমন অনড় অবস্থান ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ সচল থাকলেও ইউরোপীয় শক্তিগুলো আপাতত সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটতে নারাজ। সূত্র: এএফপি।

NB/FJ
আরও পড়ুন