ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে এক চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন। খবর বিবিসির।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু দিবস’। এদিন দেশটির সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে।” সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দিতেই ট্রাম্প এই ধরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন।’
এদিকে, ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি তৈরি হয়েছে। রোববার সকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন বিশেষ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ‘সাহসী অভিযান’ চালিয়ে সফলভাবে তাদের পাইলটকে উদ্ধার করেছে।
ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর ‘খাতামুল আম্বিয়া’-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ইরানি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে সেই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র মূলত তাদের পরাজয় ঢাকতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফলতার গল্প ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন ও ইরানি সেনাদের মধ্যে সরাসরি কয়েক দফা গোলাগুলি হয়েছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের দেওয়া এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করে তেল সম্পদ দখলের হুমকি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
