দুর্ধর্ষ অভিযান শেষে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট উদ্ধার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ওই ক্রু সদস্যকে ঘিরে চালানো হয় জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযান, যা ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মিশন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া পাইলট বর্তমানে নিরাপদ এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল আছেন।

নিখোঁজ থেকে উদ্ধারে: সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালাতে গিয়ে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্য প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তাদের একজন নিখোঁজ হয়ে পড়েন। অন্যজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় পাইলটকে ঘিরে শুরু হয় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এক অনুসন্ধান অভিযান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই ওই পাইলটকে খুঁজে পেতে তৎপর হয়ে ওঠে। ইরান এমনকি তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পেতে স্থানীয়দের পুরস্কারের ঘোষণাও দেয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ প্রতিটি মুহূর্তে পাইলটের ধরা পড়ার ঝুঁকি বাড়ছিল।

সংঘর্ষের মাঝেই উদ্ধার অভিযান

উদ্ধার মিশনটি ছিল পূর্ণমাত্রার কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বা সিএসএআর অপারেশন। এতে অংশ নেয় একাধিক হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং নজরদারি ড্রোন। শত্রু ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ে গিয়ে পাইলটকে বের করে আনার চেষ্টা চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, এই সময় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। অন্যদিকে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

পাহাড়ি ভূখণ্ডে লুকিয়ে বেঁচে থাকা

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া পাইলট ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রু সীমানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তাকে খুঁজতে শত্রুপক্ষ ক্রমেই কাছাকাছি চলে আসছিল।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কীভাবে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে হয়, কীভাবে নিজেকে আড়াল করতে হয় এবং কীভাবে সীমিত সম্পদ নিয়ে টিকে থাকতে হয়।

কোথায় ভূপাতিত হয়েছিল যুদ্ধবিমান

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বিমানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ভূপাতিত হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উঠে এসেছে।

এই অঞ্চলগুলো দুর্গম পাহাড়, যাযাবর জনগোষ্ঠী এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

কীভাবে ভূপাতিত হলো এফ-১৫

এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে স্থল উভয় ধরনের অভিযানে সক্ষম। এতে সাধারণত দুজন ক্রু সদস্য থাকেন, পাইলট এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা।

বিমানটি কীভাবে ভূপাতিত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইরানের স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এতে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা প্রবল। সূত্র: বিবিসি

AS/FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত