ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধের দাবি ওয়াশিংটনের

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের শর্ত হিসেবে তেহরানের সমস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এই লক্ষ্য অর্জনকেই তিনি ইরানে সামরিক হামলা চালানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন হয়, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য এর মাত্রা অন্তত ৯০ শতাংশ হতে হয়।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার (IAEA) তথ্যমতে, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে আরও পরিশোধন করা হলে তা দিয়ে ১০ থেকে ১১টি প্রাথমিক পর্যায়ের পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

ইরান এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তাদের যুক্তি হলো, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) অনুযায়ী প্রতিটি স্বাক্ষরকারী দেশের জ্বালানি, চিকিৎসা এবং শিল্প খাতের জন্য শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, যেখানে নিষেধাজ্ঞার বিনিময়ে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছিল তেহরান। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই চুক্তিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে বেরিয়ে যান। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই চুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন