ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হত্যার ঘটনা ভয়াবহ পর্যায়ে

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০১:০০ পিএম

২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে খুনের ঘটনা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর ইসরায়েলের শেফা-আমর (Shefa-Amr) শহরে ৫০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে এ বছর নিহতের সংখ্যা ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (Wafa) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ১০০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক (যারা ইসরায়েলের পাসপোর্টধারী) অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও অপরাধী চক্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯০ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন। বাকিরা ছুরিকাঘাত এবং অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন (এক নারীকে চলন্ত গাড়ির ভেতর পুড়িয়ে মারা হয়েছে)।

নিহতদের মধ্যে ৪৮ জনের বয়স ৩০ বছরের নিচে, যার মধ্যে ৮ জন নারী। এছাড়াও ৩ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলি পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের কোনো সমাধান হয় না এবং খুনিরা 'অজ্ঞাত' থেকে যায়। ২০২৫ সালেও ইসরায়েলে রেকর্ড ৩০০টি খুনের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে ২৫২ জনই ছিলেন ফিলিস্তিনি। অথচ তারা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২১ শতাংশ।  

বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় ১৯ লক্ষ ফিলিস্তিনি নাগরিক বসবাস করেন। তারা মূলত ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর। ইসরায়েলি পাসপোর্ট থাকলেও তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হন বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দাবি করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের উদাসীনতা এবং পরিকল্পিত অপরাধ দমনে ব্যর্থতা এই সম্প্রদায়কে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।  

 

SN
আরও পড়ুন